Book 1 || ReWork || Jason Frie, David Heinemeier Hanson || Ankon Dey Animesh
ReWork মূলত এমন একটা বই, যে বইটি প্রমিজ করে যে সেটি আপনার বিজনেস সম্পর্কে ট্র্যাডিশনাল সব আইডিয়া ভুলে গিয়ে নতুন করে ভাবাতে শুরু করবে, এবং এখনের জন্য উপযোগী নতুন কিছু অপ্রচলিত টিপস দিবে!

Introduction
এখনের সময়ে স্টার্টাপ লঞ্চ করা যেকোন সময় থেকে অনেক বেশি সহজ। যত আমরা নতুন সাক্সেস এর গল্প শুনব, ততই বুঝতে পারব যে তেমন টাকাপয়সা বা রিসোর্স ছাড়াই ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন কোম্পানি দাঁড়া করানো যায়। কিন্তু যদি সফলতা হয় মূল লক্ষ্য, তাহলে কিছু আইডিয়া সম্পর্কে আগে মাথায় রেখে এরপর শুরু করা উচিত হবে।
লেখকদের মতে, ছোট থেকে শুরু করার আইডিয়াই হচ্ছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। সবাই হয়ত ভাবে যে আমার এখন যা আছে, তার সব কিছু বন্ধ করে ২৪ ঘন্টা পুরোপুরি নিয়োগ করে বিশাল স্কেলে আমাকে এটি শুরু করতে হবে- যা ঠিক নয়। এটা ঠিক, যে নতুন উদ্যোক্তাদের মনে হাজারো স্বপ্ন, হাজারো চিন্তা এবং এক্সাইট্মেন্ট এসে ভীড় করে। তার জন্য এই বইয়ের লেখকদের এডভাইস হচ্ছে যাতে সেই এক্সাইট্মেন্টকে ছোট ছোট টুকরো করে আসতে আসতে এচিভ করতে করতে তারা আগাতে থাকে।
এই মডারেশনের নিয়ম কেবল মাত্র চিন্তা নয়, ফিন্যান্স বা টাকা পয়সার ব্যাপারেও সত্যি। অনেককেই হয়ত দেখবেন যে নিজের আইডিয়া বা চিন্তা নিয়ে অনেক কনফিডেন্ট হয়ে বিশাল এমাউন্ট এর ধার দেনা করে ফেলতে। কেউ চাইলে তেমনটি করতেই পারে, কিন্তু সেটা রেকমেন্ডেড নাহ।
এই অভিয়াস প্রিন্সিপালগুলোর সাথে ডিসাইড করতে হবে বিজনেস এর মূলে কি আছে। যেমন আপনি যদি Dunkin Donuts এর উদ্যোক্তা হন, তাহলে আপনার মূলে আছে কফি এবং ডোনাট। একটা স্ট্যাবল বিজনেস কোর বা মূলের উপরে বিজনেস শুরু করাটাও দরকারি। যেমন আপনি যদি Fidget Spinner নিয়ে আপনার ব্যবসা শুরু করেন, তাহলে হয়ত আপনার ফিউচারে সমস্যা হবে কারণ এই স্পিনার বেশিদিন ফ্যাশনের অংশ থাকবে নাহ (বইটা ২০১০ সালের, এখন স্পিনার ফ্যাশনের অংশ নাহ)। কিন্তু যেই প্ল্যাটফর্ম ফ্রিলান্সের সাথে বায়ারদের মিলন করিয়ে দিবে, সেইরকম প্ল্যাটফর্মগুলোর ডিমান্ড বহু সময় ধরে থাকবে!
এবং এই তিনটি মূল জিনিস মাথায় রাখলেই আপনি সহজে আপনার বিজনেসকে আসতে আসতে গ্রো করে ফেলতে পারবেন। যেটা থেকে আসে ফাইনাল টিপ্সঃ DON'T OVERTHINK IT! একটা বিজনেস শুরু করার ব্যাপারটা দেখে যা মনে হয়, তার থেকে সহজ। আপনার সবকিছু রেডিমেড থাকতে হবে কথা নেই। হয়ত শুনে সেন্স মেইক নাও করতে পারে অনেকের, তবু সবকিছু রেডিমেড থাকার থেকে প্রথমে শুরু করে এরপর আসতে আসতে ডেভেলাপ করা অনেক বেশি বেটার।

Chapter 1: What Matters To You?
যেকোন জিনিস ধরে রাখার জন্য সবথেকে বেশি যেটা প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে নিজের কাছে নিজের একটা মোটিভেশন। যদি আপনার হৃদয় বা হার্ট ঠিকঠাক জায়গায় না থাকে, তাহলে ফেইল করার চান্স তো অনেকাংশেই বেড়ে যায়। এবং, তার থেকেও বড় ব্যাপার হচ্ছে আপনার মোটিভেশনটা ঠিক বা ভ্যালিড কিনা সফলতার জন্য। যেমন যদি আপনার বিজনেস শুরু করার মূল লক্ষ্য হয় যে আপনি ২৫ বছর বয়সের আগেই মিলিওনিয়ার হয়ে যাবেন, তাহলে বিলিভ মি, আপনার ফেইল করার চান্স নিয়ার ১০০%।
কেন? কারণ একদম মূলে, বিজনেস এর কোর থাকা উচিত টাকা ছাড়া অন্য যেকোন উদ্দেশ্য। আপনার উদ্দেশ্যটা আপনাকে বিজনেস শুরু করতে এবং চালাতে অনুপ্রেরণা দিবে আর বিজনেস ফান্ডামেন্টালসগুলো আপনাকে সেই পথে চলমান অবস্থায় টাকা এনে দিবে- এটাই স্ট্যান্ডার্ড মডেল। হতে পারে আপনি আপনার ফ্যামিলি ট্র্যাডিশন বা আইডেন্টিটি স্প্রেড করতে হোম-মেইড বা ট্র্যাডিশনাল রেসিপি ইউজ করে কিছু বানিয়ে বিক্রি করেন। অথবা হতে পারে আপনার বিজনেস এর মাধ্যমে আপনার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরকে সাহায্য করার উদ্দেশ্য প্রবল। এর মানে অবশ্যই এটা নয় যে আপনার উদ্দেশ্য 100% altruistic হতে হবে বা আপনাকে নন-প্রফিট হতে হবে। বরং বিজনেস এর মূলটা আপনার প্যাশনের জায়গা হওয়া অনেক বেশি দরকারি। হতে পারে আপনার সেই ছোট্টবেলা থেকে ইচ্ছা বেকারি-শপ খুলার, সেই উদ্দেশ্য থেকেই আপনি বেকারি-শপ খুলছেন!
এই যে প্যাশন, এই প্যাশনই আপনাকে এই বিজনেস গ্রো করার জন্য বিভিন্ন ডিসিশন নিতে সাহায্য করবে। জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ব্রুকলিন নাইন্টি নাইন এর চার্লি এর কথা মনে আছে? না থাকলে মনে করিয়ে দিই। চার্লি ব্রুকলিনের সবাইর মাঝে নিজের রেসিপি শেয়ার করার মোটিভেশন থেকে একটি ফুড কার্ট খুলে। ফুড কার্টের মধ্যে তার নিজের প্যাশন আর রেসিপি শো করার ইচ্ছা থেকে সে যখন কেউ অর্ডার করে, তখন ই তার সামনে মিটবল প্রস্তুত করে দেয়। হ্যাঁ, অবশ্যই যদি সে আগে থেকে মিটবল প্রস্তুত করে রাখত এবং কেউ চাওয়া মাত্রই তা দিতে পারত, তাহলে তো লাভ বেশি হত বলেই মনে হচ্ছে! কিন্তু তার এই যে খাদ্যের কোয়ালিটির প্রতি কমিট্মেন্ট দেখানো, সেটা হয়ত দিনশেষে তার প্রমোশন বাড়িয়ে তাকে এক্সট্রা রেভিনিউ ইঙ্কাম করতে সাহায্য করবে! এবং সবশেষে সে তার নিজের প্রোডাক্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে!
যদিও উদাহারণটা ফিকশনাল, কিন্তু মূল আইডিয়াটা এখনো খাটে! এমনকি যদি আপনি নিজের প্যাশনের কিছু না ও পান, আপনি কি এমন কিছু খুঁজে পাচ্ছেন যেটা আপনি পছন্দ করেন নাহ!? ধরেন আপনি হচ্ছেন এমন একজন মানুষ, যার কাছে স্বাদের ডিফারেন্স এন্ড টেস্ট ম্যাটার করে। যার কাছে সিফুড পাস্তা এবং চিকেন পাস্তা দুটো ভিন্ন জিনিস, এবং আপনি ঐসব মানুষ দেখতে দেখতে ফেডাপ যাদের কাছে পাস্তা মানে শুধুই পাস্তা। তাই আপনি এমন একটা জায়গা খুললেন যেখানে এই ইউনিক ডিফারেন্স সহ খেতে চাওয়া মানুষগুলোর ইচ্ছে প্রাধান্য পাবে। তারা এসেই বলতে পারবে "আমাকে টমেটো কেচাপ কমিয়ে বেকড মিটবল পাস্তা দিন"।
যেহেতু সবার প্যাশনের জায়গা ভিন্ন, তাই এই জিনিসটি অটোম্যাটিক্যালি আপনাকে ইউনিক বা মৌলিক করে তুলবে। আপনার কাস্টমাররা আপনাকে মনে রাখবে কারণ আপনি আলাদা, এবং হয়ত অন্যদেরকে আপনার ব্যাপারে সাজেস্ট ও করবে! আপনার কাছে যেটা ভালো লাগবে, সেটা অনেকেরই ভালো লাগবে! হতে পারে আপনার ট্র্যাডিশনাল মেকাপ ভালো লাগে নাহ, এবং আপনি দেখবেন যে আপনার মত অনেকের ই লাগে না! এবং এই ইউনিক বিষয়গুলো আপনার অটো-প্রমোশন এবং ফোর্সড-প্রমোশন দুইজায়গাতেই ভালো ভূমিকা রাখবে। এবং যদি একই সাথে আপনি চিহ্নিত করতে পারেন যে আপনার কম্পিটিটর কে কে এবং আপনার কোন কোন দিকের জন্য আপনি কম্পিটিটর থেকে বেটার কিছু দিতে পারবেন, তাহলে তো আর কথাই থাকলো নাহ! কম্পিটিশন থেকে বেটার কিছু সার্ভ করতে করতেই আপনার বিজনেস গ্রো করে ফেলবে!

CHAPTER 2: YOU CAN BE ANYTHING BUT BORING
আপনি যদি একটা ভালো কিছু বানান, তাহলে সেটার আইডিয়া যে কপি হয়ে যাবেনা, তা নিয়ে নিশ্চয়তা কেউ দিবে নাহ। বরং ধরেই নিন যে কপি হবে! আপনি আমাজন কে টেক্কা দিতে ওদের একটা ভুল বের করে একটা কোম্পানি খুললে, আমাজন ৩ দিন এর মধ্যেই সেটা সমাধান করে ফেলবে! এটা সব সাক্সেস্ফুল জিনিসের জন্যই সত্যি যে আপনার প্রোডাক্ট বা আইডিয়া কপিড হবেই! তাই এমন কিছু বানানো যায় না যা কপি করা একদম ইম্পসিবল? কী হতে পারে তা? অবশ্যই অনেক বেশি কনফিডেনশিয়াল কিছু করে নাহ, বরং বিজনেসটাকে আপনি কীভাবে হ্যান্ডেল করবেন সেই দিকটা পাল্টালেই হয়ে যাবে!
যেমন ধরেন, আপনিও জানেন আমিও জানি যে মানুষ যেকোন দোকান থেকেই কাপড় কিনতে পারে। কিন্তু অন্য কোনো দোকান হয়ত আপনার মত কাস্টমার সার্ভিস দেয় নাহ! অন্য কোনো দোকান হয়ত মার্কেটে কেউ আসা মাত্রই আপনার মত তাকে ট্রিট করে নাহ, বা অন্য কোনো দোকান হয়ত আপনার মত সচেতন নাহ! বিষয়টা খুব ই সহজ! কিন্তু আপনার মত করে আপনাকে নকল করা সবার দাঁড়া সম্ভব নাহ যদি নাহ সে আপনার বাবা/মা হয়! তাই ব্যবসার মূল বিষয়বস্তুকে ইউনিক না বানিয়ে চাইলেই ব্যবসার প্রতি আপনার যে এপ্রোচ সেটাকে বানিয়ে ফেলতে পারেন ইউনিক! এর সাথে যে জিনিসটা যুক্ত করতে পারেন সেটা হচ্ছে এমন কিছু বানানো, যেটার উপর আপনি নিজে সন্তুষ্ট থাকবেন!
যেমন ধরেন যে আপনার সেই ছোট্ট বেলা থেকে ইচ্ছা আপনি একটা বেকারি- শপ দিবেন। তাহলে আপনার এমন কেক বানানো উচিত, যেটা খেতে আপনার নিজের প্রতিদিন ভালো লাগবে! এবং যদি এই প্রতিটি কেককে আপনি আপনার গোল এবং প্যাশনের মধ্যে সমন্বয় করে বানাতে পারেন, তাহলে আপনি নিজেকেই নিজে গ্যারান্টি দিতে পারেন যে আপনি ও আপনার টার্গেট কাস্টমার- সকলেই এতে খুশি থাকবে! এবং এই যে আপনি নিজের প্রোডাক্টকে নিজের এক্সপেরিয়েন্স করছেন, এটা থেকে আপনি নিজের মধ্যে নতুন একটা ফিলিং জাগ্রত করবেন। আপনি প্রতিনিয়ত বুঝতে পারবেন যে আপনার কাস্টমাররা এরকম কিছু চায় নাকি চায় নাহ। অথবা কীরকম কাস্টমার কীরকম টেস্ট খুঁজতে আসছে!
এবং যদি আপনি এই সব কিছু একত্র করতে পারেন, অর্থাৎ আপনি এমন কিছু করছেন যা আপনি করতে চান, আপনি যা করছেন তা উপভোগ করে আপনি নিজেও খুশি এবং আপনি নিজে কাস্টমার হলে যা ভালোবাসতেন দেখতে তাই দেখাচ্ছেন অন্য কাস্টমারদেরকে, তাহলে আপনি নিঃসন্দেহে আপনার বিজনেসকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন! সাথে আপনার বিজনেস চুরি হওয়ার টেনশন? আর করা লাগবে নাহ হয়ত!

CHAPTER 3: BIGGER ISN’T ALWAYS BETTER
হয়ত আপনার মনে স্বপ্ন থাকতে পারে যে কবে আপনি ইন্টারন্যাশনালি রিনোন্ড ব্র্যান্ড হয়ে যাবেন খুব দ্রুত! কিন্তু বিশ্বাস করুন বা না করুন, এটাই সব সময় বেস্ট অপশন নাহ! আপনি চাইলেই ভেবে দেখতে পারেন যে সুপারমার্কেটের মধ্যে ওই যে দোকানটা সে নিজেকে এক্সপ্যান্ড করছে না কেন! ছোট থাকা অবস্থায় অনেক সুবিধা আছে যা বড় হলে পাওয়া যায় নাহ! আর ছোট থাকা অবস্থায় যদি আপনি পুরোপুরী বিকশিত না হন, তাহলে বড় হওয়ার পরে ধাক্কা খেতে হতে পারে! তারা বড় না হওয়ার পিছনে দুটো ফ্যাক্টর কাজ করে। ১, অনেক সময় সংখ্যা বেশি হলে কোয়ালিটি স্যাক্রিফাইস হয়ে যায়, অথবা ২, তারা এখন যে সাইজে আছে, সেটাতেই তারা বেস্টটা দিতে পারছে!
ছোট থাকা অবস্থায় আপনি যে ফ্রিডম পাবেন, সেটা বড় হলে পাবেন নাহ! ছোট থাকা অবস্থায় আপনি প্রতিনিয়ত নিজেকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে পারবেন এবং শিখতে থাকবে অনেক কিছু যা পরে আপনাকে অনেক সাহায্য করবে! আপনি যদি আজকে একটা লস খান, আপনার ব্র্যান্ডের তেমন কিছু হবে নাহ। কিন্তু যদি নামী দামী কোন ব্র্যান্ড কিছুতে ফ্লপ করে, বিজনেস ডাউন হতে কত কম সময় লাগবে ভাবুন! যদি আপনার বিজনেস রাতারাতি বড় হয়ে যায়, তাহলে ফ্যান্টাস্টিক! চেষ্টা করুন মানিয়ে নেওয়ার। যদি না হয়, তাহলে এখনই সেটাকে দ্রুত বড় করার চিন্তায় সময় দিয়েন নাহ!
ছোট বিজনেস থাকা অবস্থায় আপনি আপনার টিমমেটদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন! হয়ত আপনার টিমে এখন ৫ জন মেম্বার, এবং এই ৫ জনকে আপনি যত ভালো চিনবেন, প্রোডাক্টিভিটি তত বাড়বে। এক হাজারটা মেম্বার থাকলে চিনার কাজ ইম্পসিবল হয়ে যায়! তার থেকেও বড় কথা হচ্ছে, সংখ্যা কম হওয়ায় আপনি আপনার সব টিম মেম্বারকেই ফ্রন্ট লাইনে রাখতে পারবেন এবং তাদের মতামত অনেক প্রাধান্য পাবে বলে তারা আপনার সাথে থেকে খুশি থাকবে! সাথে আপনি আপনার সাথে আরো যেসব লোকাল দোকান আছে, তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। গড়ে তুলত পারেন বাণিজ্যিক বন্ধু, যারা সামনে আপনার বিপদে আপনাকে সাহায্য করতে পারবে!
বড় বিজনেসগুলোর সেই দশা নেই। এমনকি অনেক বই লেখা হয়েছে কীভাবে বড় অর্গনাইজেশনে ভালো টিম এফোর্ট আনা যায় সেটার উপর কারণ সেখানে আনাটা আসলেই কষ্টকর হয়ে যেতে পারে! আপনি যখন সাইজে ছোট, তখন সবাই আপনাদের যে কোর বা মূল ভ্যালু সেটাতে কাজ করতে পারবেন। ধরে নেওয়া যাক সেটি কাস্টমার সার্ভিস। আপনারা ঐ ছোট টিম মিলে জান প্রাণ লাগিয়ে দিবেন সব কাস্টমার এর হাসিমুখ এর জন্য! বড় অবস্থায় এই ব্যাপারটা ম্যান্টেইন করা কতটা টাফ হবে আপনার জন্য ভেবে দেখুন তো! ১০০০টা আপনার মনের মত সেইম মনের মানুষ পাওয়া! ইম্পসিবল নাহ?

CHAPTER 4: KEEP IT SIMPLE
কখনো কোনো বড় অর্গনাইজেশনের কোনো লেখা পড়ে কি মনে হয়েছে যে "আরে পুরোটাই তো মাথার উপর দিয়ে গেল!"? যদি হয়, তাহলে আপনি একা নাহ এবং আপনি ঠিক! একটা অর্গনাইজেশন যত বড় হয়, তাদের মেসেজ তত ফর্মাল হতে থাকে। এবং এত ফর্মাল হয়ে যায় যে সাধারণ মানুষ আর তার সাথে রিলেট করতে পারে নাহ! তাই প্রথম পূর্বশত হচ্ছে, সাধারণ রাখুন। ইনফর্মাল হলে সমস্যা নাহ আপনার জন্য, কিন্তু সাধারণ মেসেজ রাখলে কাস্টমার কে কাছে আনা আপনার জন্য সহজ হবে!
আপনার এই যে এটিটিউড, এটাই আপনার কমিউনিকেশনের উপর প্রভাব রাখবে। আপনি প্রতিটা ফোন কল, মেসেজ বা ফেসবুক কমেন্টকে গুরুত্ব দিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে পারেন যেটা হয়ত বড় অর্গনাইজেশন পারবে নাহ! প্রতিটা মেসেজকারীকে আপনি গুরুত্বপূর্ণ ফিল করাতে পারেন! এখন সোশ্যাল মিডিয়া অনেক ভালো ইমার্জিং প্ল্যাটফর্ম আপনার বিজনেস কে প্রমোট করার জন্য!
আপনি এটা অবশ্যই বুঝেন যে ভালো কোনো ভাবে রাতারাতি টুইটারে ভাইরাল হওয়া নিয়ার ইম্পসিবল। আপনি অবশ্যই আপনার থেকে একটু বড় কোনো প্ল্যাটফর্মে প্রমোট করতে চাইবেন, কিন্তু মনে রাখবেন যে সেটা দিয়ে আপনার হয়ত তেমন কিছুই হবে নাহ! তার থেকে বরং এমন কিছু করা উচিত যাতে আপনার কাস্টমার সব থেকে বেশি বাড়তে পারে। আপনি আপনার লোকালিটির ভিতরে অন্যান্য দোকান বা রিজিওনাল নিউজপেপার এর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলুন, সেই এলাকার কাস্টমারদের মন বোঝার চেষ্টা করুন। অন্য কোনো দোকান বা কোনো রিজিওনাল নিউজপেপার আপনাকে নিয়ে যদি ভালো একটা লেখা লেখে, সেটার থেকে আপনার কাস্টমার যে পরিমাণ বাড়বে, সেই তুলনায় প্রথম আলোতে ছোট না দেখতে পাওয়ার মত বিজ্ঞাপন দিয়ে কিছুই বাড়বে নাহ।

CHAPTER 5: FINAL SUMMARY
স্টার্টাপ বা নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সময় উদ্যোক্তাদের মাথায় যদি মিস্কন্সেপশন থাকে, তাহলে তা পুরো বিজনেসটারই বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে। তাই, আপনার মাথায় তেমন কিছু রাখবেন নাহ! বরং এই বই এর লেখকদের যে এক্সপেরিয়েন্সড পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে এডভাইস আছে, সেটাকে ব্যবহার করতে পারেন!
যদি আপনি ভেবে থাকেন যে মোটা অংকের টাকার পরে টাকা ইনভেস্ট করতে থাকাটাই বিজনেস, তাহলে সেই আইডিয়াকে আপনি ফেলে দিতে পারেন আপাতত! এবং অবশ্যই এখনই নিজের চাকরি ছেড়ে দিয়ে লেগে পড়তে হবে না! বরং অল্প অল্প করে নিজের বিজনেসকে গড়ে তুলতে থাকুন একটা স্ট্যাবল ইঙ্কাম সোর্স রাখার পাশাপাশি! কেবল আপনার প্যাশন খুঁজে বের করুন, ইউনিক কিছু অফার করুন, কপি করতে দুঃসাধ্য হয়ে উঠুন, আপনার কমিউনিকেশন সিম্পল রাখুন- তাতেই হবে!
Editor and Summarizer: Ankon Dey Animesh
আপনি যদি একটা ভালো কিছু বানান, তাহলে সেটার আইডিয়া যে কপি হয়ে যাবেনা, তা নিয়ে নিশ্চয়তা কেউ দিবে নাহ। বরং ধরেই নিন যে কপি হবে! আপনি আমাজন কে টেক্কা দিতে ওদের একটা ভুল বের করে একটা কোম্পানি খুললে, আমাজন ৩ দিন এর মধ্যেই সেটা সমাধান করে ফেলবে! এটা সব সাক্সেস্ফুল জিনিসের জন্যই সত্যি যে আপনার প্রোডাক্ট বা আইডিয়া কপিড হবেই! তাই এমন কিছু বানানো যায় না যা কপি করা একদম ইম্পসিবল? কী হতে পারে তা? অবশ্যই অনেক বেশি কনফিডেনশিয়াল কিছু করে নাহ, বরং বিজনেসটাকে আপনি কীভাবে হ্যান্ডেল করবেন সেই দিকটা পাল্টালেই হয়ে যাবে!
যেমন ধরেন, আপনিও জানেন আমিও জানি যে মানুষ যেকোন দোকান থেকেই কাপড় কিনতে পারে। কিন্তু অন্য কোনো দোকান হয়ত আপনার মত কাস্টমার সার্ভিস দেয় নাহ! অন্য কোনো দোকান হয়ত মার্কেটে কেউ আসা মাত্রই আপনার মত তাকে ট্রিট করে নাহ, বা অন্য কোনো দোকান হয়ত আপনার মত সচেতন নাহ! বিষয়টা খুব ই সহজ! কিন্তু আপনার মত করে আপনাকে নকল করা সবার দাঁড়া সম্ভব নাহ যদি নাহ সে আপনার বাবা/মা হয়! তাই ব্যবসার মূল বিষয়বস্তুকে ইউনিক না বানিয়ে চাইলেই ব্যবসার প্রতি আপনার যে এপ্রোচ সেটাকে বানিয়ে ফেলতে পারেন ইউনিক! এর সাথে যে জিনিসটা যুক্ত করতে পারেন সেটা হচ্ছে এমন কিছু বানানো, যেটার উপর আপনি নিজে সন্তুষ্ট থাকবেন!
যেমন ধরেন যে আপনার সেই ছোট্ট বেলা থেকে ইচ্ছা আপনি একটা বেকারি- শপ দিবেন। তাহলে আপনার এমন কেক বানানো উচিত, যেটা খেতে আপনার নিজের প্রতিদিন ভালো লাগবে! এবং যদি এই প্রতিটি কেককে আপনি আপনার গোল এবং প্যাশনের মধ্যে সমন্বয় করে বানাতে পারেন, তাহলে আপনি নিজেকেই নিজে গ্যারান্টি দিতে পারেন যে আপনি ও আপনার টার্গেট কাস্টমার- সকলেই এতে খুশি থাকবে! এবং এই যে আপনি নিজের প্রোডাক্টকে নিজের এক্সপেরিয়েন্স করছেন, এটা থেকে আপনি নিজের মধ্যে নতুন একটা ফিলিং জাগ্রত করবেন। আপনি প্রতিনিয়ত বুঝতে পারবেন যে আপনার কাস্টমাররা এরকম কিছু চায় নাকি চায় নাহ। অথবা কীরকম কাস্টমার কীরকম টেস্ট খুঁজতে আসছে!
এবং যদি আপনি এই সব কিছু একত্র করতে পারেন, অর্থাৎ আপনি এমন কিছু করছেন যা আপনি করতে চান, আপনি যা করছেন তা উপভোগ করে আপনি নিজেও খুশি এবং আপনি নিজে কাস্টমার হলে যা ভালোবাসতেন দেখতে তাই দেখাচ্ছেন অন্য কাস্টমারদেরকে, তাহলে আপনি নিঃসন্দেহে আপনার বিজনেসকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন! সাথে আপনার বিজনেস চুরি হওয়ার টেনশন? আর করা লাগবে নাহ হয়ত!

CHAPTER 3: BIGGER ISN’T ALWAYS BETTER
হয়ত আপনার মনে স্বপ্ন থাকতে পারে যে কবে আপনি ইন্টারন্যাশনালি রিনোন্ড ব্র্যান্ড হয়ে যাবেন খুব দ্রুত! কিন্তু বিশ্বাস করুন বা না করুন, এটাই সব সময় বেস্ট অপশন নাহ! আপনি চাইলেই ভেবে দেখতে পারেন যে সুপারমার্কেটের মধ্যে ওই যে দোকানটা সে নিজেকে এক্সপ্যান্ড করছে না কেন! ছোট থাকা অবস্থায় অনেক সুবিধা আছে যা বড় হলে পাওয়া যায় নাহ! আর ছোট থাকা অবস্থায় যদি আপনি পুরোপুরী বিকশিত না হন, তাহলে বড় হওয়ার পরে ধাক্কা খেতে হতে পারে! তারা বড় না হওয়ার পিছনে দুটো ফ্যাক্টর কাজ করে। ১, অনেক সময় সংখ্যা বেশি হলে কোয়ালিটি স্যাক্রিফাইস হয়ে যায়, অথবা ২, তারা এখন যে সাইজে আছে, সেটাতেই তারা বেস্টটা দিতে পারছে!
ছোট থাকা অবস্থায় আপনি যে ফ্রিডম পাবেন, সেটা বড় হলে পাবেন নাহ! ছোট থাকা অবস্থায় আপনি প্রতিনিয়ত নিজেকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে পারবেন এবং শিখতে থাকবে অনেক কিছু যা পরে আপনাকে অনেক সাহায্য করবে! আপনি যদি আজকে একটা লস খান, আপনার ব্র্যান্ডের তেমন কিছু হবে নাহ। কিন্তু যদি নামী দামী কোন ব্র্যান্ড কিছুতে ফ্লপ করে, বিজনেস ডাউন হতে কত কম সময় লাগবে ভাবুন! যদি আপনার বিজনেস রাতারাতি বড় হয়ে যায়, তাহলে ফ্যান্টাস্টিক! চেষ্টা করুন মানিয়ে নেওয়ার। যদি না হয়, তাহলে এখনই সেটাকে দ্রুত বড় করার চিন্তায় সময় দিয়েন নাহ!
ছোট বিজনেস থাকা অবস্থায় আপনি আপনার টিমমেটদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন! হয়ত আপনার টিমে এখন ৫ জন মেম্বার, এবং এই ৫ জনকে আপনি যত ভালো চিনবেন, প্রোডাক্টিভিটি তত বাড়বে। এক হাজারটা মেম্বার থাকলে চিনার কাজ ইম্পসিবল হয়ে যায়! তার থেকেও বড় কথা হচ্ছে, সংখ্যা কম হওয়ায় আপনি আপনার সব টিম মেম্বারকেই ফ্রন্ট লাইনে রাখতে পারবেন এবং তাদের মতামত অনেক প্রাধান্য পাবে বলে তারা আপনার সাথে থেকে খুশি থাকবে! সাথে আপনি আপনার সাথে আরো যেসব লোকাল দোকান আছে, তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। গড়ে তুলত পারেন বাণিজ্যিক বন্ধু, যারা সামনে আপনার বিপদে আপনাকে সাহায্য করতে পারবে!
বড় বিজনেসগুলোর সেই দশা নেই। এমনকি অনেক বই লেখা হয়েছে কীভাবে বড় অর্গনাইজেশনে ভালো টিম এফোর্ট আনা যায় সেটার উপর কারণ সেখানে আনাটা আসলেই কষ্টকর হয়ে যেতে পারে! আপনি যখন সাইজে ছোট, তখন সবাই আপনাদের যে কোর বা মূল ভ্যালু সেটাতে কাজ করতে পারবেন। ধরে নেওয়া যাক সেটি কাস্টমার সার্ভিস। আপনারা ঐ ছোট টিম মিলে জান প্রাণ লাগিয়ে দিবেন সব কাস্টমার এর হাসিমুখ এর জন্য! বড় অবস্থায় এই ব্যাপারটা ম্যান্টেইন করা কতটা টাফ হবে আপনার জন্য ভেবে দেখুন তো! ১০০০টা আপনার মনের মত সেইম মনের মানুষ পাওয়া! ইম্পসিবল নাহ?

CHAPTER 4: KEEP IT SIMPLE
কখনো কোনো বড় অর্গনাইজেশনের কোনো লেখা পড়ে কি মনে হয়েছে যে "আরে পুরোটাই তো মাথার উপর দিয়ে গেল!"? যদি হয়, তাহলে আপনি একা নাহ এবং আপনি ঠিক! একটা অর্গনাইজেশন যত বড় হয়, তাদের মেসেজ তত ফর্মাল হতে থাকে। এবং এত ফর্মাল হয়ে যায় যে সাধারণ মানুষ আর তার সাথে রিলেট করতে পারে নাহ! তাই প্রথম পূর্বশত হচ্ছে, সাধারণ রাখুন। ইনফর্মাল হলে সমস্যা নাহ আপনার জন্য, কিন্তু সাধারণ মেসেজ রাখলে কাস্টমার কে কাছে আনা আপনার জন্য সহজ হবে!
আপনার এই যে এটিটিউড, এটাই আপনার কমিউনিকেশনের উপর প্রভাব রাখবে। আপনি প্রতিটা ফোন কল, মেসেজ বা ফেসবুক কমেন্টকে গুরুত্ব দিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে পারেন যেটা হয়ত বড় অর্গনাইজেশন পারবে নাহ! প্রতিটা মেসেজকারীকে আপনি গুরুত্বপূর্ণ ফিল করাতে পারেন! এখন সোশ্যাল মিডিয়া অনেক ভালো ইমার্জিং প্ল্যাটফর্ম আপনার বিজনেস কে প্রমোট করার জন্য!
আপনি এটা অবশ্যই বুঝেন যে ভালো কোনো ভাবে রাতারাতি টুইটারে ভাইরাল হওয়া নিয়ার ইম্পসিবল। আপনি অবশ্যই আপনার থেকে একটু বড় কোনো প্ল্যাটফর্মে প্রমোট করতে চাইবেন, কিন্তু মনে রাখবেন যে সেটা দিয়ে আপনার হয়ত তেমন কিছুই হবে নাহ! তার থেকে বরং এমন কিছু করা উচিত যাতে আপনার কাস্টমার সব থেকে বেশি বাড়তে পারে। আপনি আপনার লোকালিটির ভিতরে অন্যান্য দোকান বা রিজিওনাল নিউজপেপার এর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলুন, সেই এলাকার কাস্টমারদের মন বোঝার চেষ্টা করুন। অন্য কোনো দোকান বা কোনো রিজিওনাল নিউজপেপার আপনাকে নিয়ে যদি ভালো একটা লেখা লেখে, সেটার থেকে আপনার কাস্টমার যে পরিমাণ বাড়বে, সেই তুলনায় প্রথম আলোতে ছোট না দেখতে পাওয়ার মত বিজ্ঞাপন দিয়ে কিছুই বাড়বে নাহ।

CHAPTER 5: FINAL SUMMARY
স্টার্টাপ বা নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সময় উদ্যোক্তাদের মাথায় যদি মিস্কন্সেপশন থাকে, তাহলে তা পুরো বিজনেসটারই বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে। তাই, আপনার মাথায় তেমন কিছু রাখবেন নাহ! বরং এই বই এর লেখকদের যে এক্সপেরিয়েন্সড পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে এডভাইস আছে, সেটাকে ব্যবহার করতে পারেন!
যদি আপনি ভেবে থাকেন যে মোটা অংকের টাকার পরে টাকা ইনভেস্ট করতে থাকাটাই বিজনেস, তাহলে সেই আইডিয়াকে আপনি ফেলে দিতে পারেন আপাতত! এবং অবশ্যই এখনই নিজের চাকরি ছেড়ে দিয়ে লেগে পড়তে হবে না! বরং অল্প অল্প করে নিজের বিজনেসকে গড়ে তুলতে থাকুন একটা স্ট্যাবল ইঙ্কাম সোর্স রাখার পাশাপাশি! কেবল আপনার প্যাশন খুঁজে বের করুন, ইউনিক কিছু অফার করুন, কপি করতে দুঃসাধ্য হয়ে উঠুন, আপনার কমিউনিকেশন সিম্পল রাখুন- তাতেই হবে!
Editor and Summarizer: Ankon Dey Animesh



আমাকে আপনার টিমে জায়গা দিলে খুশি হবো।
উত্তরমুছুন