Book 2|| All About Love || Bell Hooks || Ankon Dey Animesh
বেল হুকস এমেরিকার অন্যতম সেরা ব্ল্যাক ফেমিনিস্টদের একজন। আপনি হয়ত এর আগে বিভিন্ন টেক্সটে তার সম্পর্কে পড়েছেন, বা হয়ত পড়েননি! এই বই এ তিনি প্রেম সম্পর্কে আমরা কি বুঝি, কি ভুল বুঝি, কি বোঝা উচিত- ইত্যাদি বিষয়ে সুন্দর ভাবে আলোকপাত করেছেন!

1. Introduction
আচ্ছা মনের মধ্যে প্রেম বিষয়ক রোমান্টিক চিন্তা কবে আসতে আসতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল মনে পড়ে? হয়ত যে সময়টার কথা ভাবছেন, তার চেয়েও অনেক আগে আপনার মনের মধ্যে তৈরি হয়েছিল রোমান্টিক আইডেন্টিটি। হতে পারে ডিজনির কার্টুন, হতে পারে আপনার দেখা কোনো মুভি, যেখানে একটা সাইকেল বারবার দেখতে থাকি আমরা- একজন আরেকজনকে দেখে, তারা প্রেমে পড়ে, তাদের জীবন অদ্ভুত আনন্দে ভরে যায়, এবং এরপর তারা বিভিন্ন বাঁধা জয় করে সারাজীবন সুখে শান্তিতে বসবাস করে। এই ম্যাজিক আমাদেরকে প্রমিজ করে যে যখন আমরা ঐ স্পেশাল কাউকে পাব, তখনই আমাদের জীবন শুরু হবে। আমরা "বিশ্বাস" করি যে অন্য একজন আসা ছাড়া আমাদের জীবন পূর্ণতা পাবে নাহ। আমরা আমাদের পার্টনারকে "অন্য-অর্ধেক" বা "বেটার-অর্ধেক" বলে থাকি নিজেদের, এমন ইন্টেন্সিফাই করে বুঝাই তাদেরকে ছাড়া আমরা কতটা একা, অচল, অপূর্ণ! তো সমস্যা আছে এইটার সাথে কোনো? অবশ্যই আছে! যদি সমস্যা না থাকত, তাহলে প্রেম নিয়ে এত সমস্যা তো থাকত নাহ সমাজে! এই যে সমাজে যেভাবে আমাদের প্রেম সম্পর্কে ধারণা জন্মাচ্ছে, তা থেকেই শুরু হতে থাকে নানাবিধ সমস্যা।
"অল এবাউট লাভ" বই বা তার সামারি পড়ে কেউ যা জানবে তা হচ্ছে এই আইডিওলজি এর সমস্যা কই, এই আইডিওলজি থেকে কি কি নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট তৈরি হয়, এবং কীভাবে আমরা নিজেদের আইডিওলজি রিস্টোর করতে পারি। একলাইনে বললে আমরা দেখব প্রেম আসলেই কি জিনিস!

Chapter 1: How Do You Define Love?
এই প্রশ্নটা আগে কখনো করেছেন নিজেকে? বা করতে হয়েছিল কখনো? যেহেতু আমরা নিজেরা জানিনা এর উত্তর, তাই অনেক সময় আমরা জানতে পছন্দ করি যে অন্যরা এটা নিয়ে কি ভাবে। যেহেতু আমরা এই জিনিসটা করতে পছন্দ করি, তাই গবেষকরা আমাদের কষ্ট লাঘব করে দেওয়ার জন্য এক রিসার্চ করেন। সেই রিসার্চে উনারা কি করলেন? উনারা কিছু প্রাইমারি স্কুলে পড়া ছেলে-মেয়েকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "দেখি বাবুরা বলো তো, প্রেম মানে কী?" এরপর বাবুরাও অনেক সুন্দর সুন্দর উত্তর দিলো। এক ছেলে বললো "যখন কেউ তোমাকে ভালোবাসে, তখন সে তোমার নাম ভিন্নভাবে বলে। তুমি বুঝতে পারো যে কেবল ওর মুখেই তোমার নাম সেইফ।" একটা মেয়ে বললো "প্রেম হচ্ছে যখন তুমি কোনো ছেলেকে বলো যে ওর শার্টটা তোমার ভালোলাগে, এবং সেটা শুনে ছেলেটা প্রতিদিন সেই শার্ট পড়ে।" আরেকটা ছেলে বললো যে "প্রেম হচ্ছে সেটা যখন বাবা সারাদিন ঘেমেটেমে আসলেও মা বলে বাবা রবার্ট ব্রাউনি জুনিয়র থেকেও হ্যান্ডসাম!" হ্যাঁ, এই আন্সার গুলা অনেক কিউট, এবং হয়ত আমরা এডাল্ট হিসেবে যে আন্সার বলতাম তার থেকে অনেক বেশি ইন্সাইটফুল!
কেন এডাল্ট থেকে তারা বেশি ইন্সাইটফুল? কারণ আমরা চিন্তা করলেই বুঝব যে আমরা যে আইডিওলজিতে বিশ্বাস করি সেটা অনেকটা মিসগাইডেড। আমরা অনেক সময় লালসার সাথে প্রেমকে গুলয়ে ফেলি, ফিজিক্যালি এট্রাক্টেড ফিল করে ভাবি যে তাকে আমি ভালোবাসি এবং বাকি পুরোজীবন তাকে আমি সাপোর্ট করতে চাই। একইভাবে, আমাদের নিজেদের ফিলিংস ও ম্যানিপুলেটেড হতে পারে! আমরাও বিশ্বাস করতে পারি অন্য কাউকে যখন সে বলে যে সে আমাকে ভালোবাসে, যদিও তার কর্মকান্ড ভিন্ন কোনো গল্প বলে! এমনও হতে পারে যে আমরা অন্ধ হয়ে আছি, নিজেদের ইন্টেনশন কি সেটাই বুঝচি নাহ! আমরা ভাবি যে আমরা হয়ত কাউকে ভালোবাসি, কিন্তু আসলে আমরা তাকে ভালোবাসি নাহ বরং সে আমার জন্য কী করছে বা আমাকে কী ফিল করাতে পারছে সেই জিনিসটাকে ভালোবাসি। এরফলে যা হয় তা হচ্ছে, আমরা এই প্রেম এর ছদ্মবেশের ভেতর দিয়ে ইউজড বা এবিউজড হই। আমরা অনেক টক্সিক বা অসহনীয় প্রেমের সম্পর্কে থেকে যাই নিজেকে ডেস্পারেটলি এটা বিশ্বাস করাতে করাতে যে "সে আমাকে ভালোবাসে, আমি তাকে ভালোবাসি।"
তো স্বাভাবিকভাবেই এই ধরণের মিস্কনসেপশনগুলো অনেকের হার্টব্রেকের কারণ হয়ে যায়। আমাদের চারপাশের পৃথিবীতে এত দুঃখে ভারাক্রান্ত, এবং স্যাডলি, তার একটা ভালো অংশের কারণ হচ্ছে প্রেম সম্পর্কে মিস্কন্সেপশন। তাহলে আমরা কি করতে পারি? কীভাবে এই ভুল ধারণা ভাংতে পারি? কীভাবে নিজের পেইনগুলোকে দূর করতে পারি? বইয়ের লেখিকা বলেন, উত্তরটা খুবই সহজ। আমাদের নিজেদের ধ্যান ধারণাগুলোকেই বদলে ফেলতে হবে। প্রেমকে একটা ফিলিংস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, তার থেকে বরং একে অন্য একটা জিনিস ভাবা যায়। অনেক পুরানো একটা কথা আছে- "Love is a verb", সেই ভার্বের মত এটাকের একটা চলমান প্রক্রিয়া হতে হবে, এমন কোনো নাউন এটা হবে নাহ যেটা আসবে আর যাবে। এই জিনিসটা ভাবা আমাদের প্রেমের ডেফিনিশন এবং পারস্পেক্টিভ চেঞ্জ করতে পারে, যা থেকে বদলাতে পারে প্রেম এ থাকা জিনিসটা আসলেই কি সেই আইডিয়াটাও।

Chapter 2: WHAT’S LOVE GOT TO DO WITH IT?
কখনো কোনো ডেটিং সাইট ইউজ করেছেন? টিন্ডার/ বাম্বেল? আচ্ছা ডেটিং সাইট বাদ দেন, বাংলাদেশে এম্নেও মানুষজন ফেসবুককেই ডেটিং সাইট হিসেবে ব্যবহার করে। তো এইসব প্রোফাইলে যাকে আপনি দেখান, সে কি আপনি? খুব ক্যালকুলেশন করে আপনি আপনার সেক্সি প্রোফাইল পিকচার চুজ করেন যেটা দেখেই হয়ত অন্য ডেটিং সাইট ইউজার বলবে "আই ওয়ানা ডেট উইথ হিম", বা নিজের বায়োতে হয়ত খুব কেয়ারফুলি এমন কিছু লিখেছেন যা পড়ে আপনাকে স্মার্ট, ফানি বা ইন্টারেস্টিং মনে হবে। আপনি হয়ত ঘুম থেকে উঠে মাত্র দাত ব্রাশ করার আগে সেলফি তুলে সেটাকে প্রোফাইল পিকচার দেননি এবং বায়োতে বলেননি যে আপনার কোন হবি নেই, আপনি এখনো বাবা মায়ের প্ল্যানের উপরেই চলছেন। উপরের বাক্যগুলো সত্যি হলেও আপনি হয়ত বলেননি!
তো তার মানে কি আপনি মিথ্যা বলছেন? ওয়েল, ইয়েস এন্ড নো। আপনি নিজের বেস্ট ভার্শন কে প্রেজেন্ট করার ট্রাই করছেন? অবশ্যই! সেটা কি খারাপ? নট নেসেসারিলি। সবাই তাদের বেস্ট ভার্শনকে সামনে এগিয়ে দিতে চায় সবাইকে দেখাতে, আমিও চাই। এবং মোটামুটিভাবে, এই জিনিসটা খারাপ নাহ। এটা প্রবলেম হতে পারে তখন যখন আপনার এই দাগবিহীন চরিত্র, সুদর্শন ইডিট করা চেহারা আপনার প্রথম ডেটে বা কয়েক সপ্তাহ পরে ঝলসানো শুরু করবে। আপনি হয়ত প্রোফাইল পিকচারে লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও, কিন্তু সামনে নন!
এইযে এতক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়া বা ডেইটিং সাইটের কথা বললাম, এগুলো মেটাফোর। মূল প্রশ্ন হচ্ছে আপনি কি তাকে আপনার সাথে সম্পর্কে জড়ানোর আগে আপনার সবটা দেখাচ্ছেন? বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উত্তর হয় না, এবং এটা এক্সট্রিমলি প্রবলেম্যাটিক! এই যে মিথ্যা পোর্ট্রেয়াল, এটা আবার একটা হ্যাভিলি জেন্ডারড ইস্যু বলে লেখিকা মনে করেন। যদি আপনি মেয়ে হন, তাহলে হয়ত আপনার জীবনে আপনি হাজারবারের বেশি এটাকে নোটিস করেছেন! উদাহারণস্বরূপ, ছেলেরা "লাভ" বা "প্রেম" টার্মটাকে ইউজ করে সেক্স বা ইন্টিমেট সময় পেতে, মূলত মেয়েদেরকে ম্যানিপুলেট করে এবং তার লালসা কে "প্রেম" এ রূপান্তরিত করে মিসগাইড করে। শুধু তাই নয়, মেয়েদেরকে হয়ত হেল্পলেস ভাবে নিজেকে প্রেজেন্ট করতে প্রেশার করা হয় মেইল ইগো কে সাপোর্ট করে শক্তিশালী করে তুলতে। এই যে রোমান্টিক রিলেশন নিয়ে এত কনফিউশন এবং মিসকন্সেপশন, নো ওয়ান্ডার কেন আমরা ঠিকভাবে প্রেম কি জিনিস সেটার উত্তর দিতে ব্যর্থ হই!

CHAPTER 3: THE DANGER OF “FALLING” IN LOVE
আমি প্রেমে পড়েছি, এই টার্মটা আমরা শুনিনি কয়জন। এই যে প্রেমে "পড়া", এই টার্মতো আমরা লাখবারের উপর গানের লিরিক্স, টিভি শো, মুভি, বই- সব খানে পেয়েছি। আমরা এই দুজনের দেখা হলো এবং তারা প্রেমে পড়ে গেলো- এই ফ্রেজ দিয়ে তো হাজারবার এর বেশি বম্বার্ডেড হই! আমাদের বন্ধুরা বলে যে এটা তাদের ভাগ্যে ছিল, বা ইট ওয়াস মেন্ট টু বি! দুজন হতে পারে "Starstruck" বা তাদেরটা নাকি তারার মধ্যে লেখা! সাথে আমরা আরো শুনি যে প্রেম অন্ধ করে দেয়, আমরা প্রেমে পড়াকে থামাতে পারি নাহ। এই ফ্রেজগুলোর ব্যবহার আমাদের সমাজে অনেক নর্মালাইজড হয়ে গিয়েছে। এবং এগুলোর মধ্যে আমরা খারাপ বা ভুল কিছু দেখি নাহ! কিন্তু আপনি কি এদের সব গুলোর মধ্যে একটা কমন থ্রেড লক্ষ্য করেছেন? যদিও এগুলো যেকেউ, যেকোন সার্কামস্টেন্সে যে কাউকে বলতে পারে, কিন্তু তাও এদের মধ্যে অদ্ভুত মিল আছে, সবাই বোঝাচ্ছে প্রেমকে আটকানো যায় নাহ, এটা একটা হেল্পলেস কন্ডিশন। এটা এমন একটা জিনিস যা আমার কন্ট্রোলের বাইরে!
আমরা কি কখনো থেমে নিজেদেরকে জিজ্ঞেস করেছি এটি সঠিক কিনা? প্রেমে পড়া কি রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে গর্তে পড়ে যাওয়ার মত যেটাকে আমরা ঠেকাতে পারি নাহ? আর গর্তেই যদি পড়ি, আমরা কি কখনো সেই গর্ত থেকে বের হতে পারি? আমাদের পড়তেই থাকা বা আটকে যাওয়া উচিত নাহ? বের হয়ে যাওয়া জিনিসটা কি স্বাভাবিক? তাহলে যদি বের হওয়া জিনিসটা স্বাভাবিক না হয়, তাহলে যখন সব কিছু ওয়ার্কাউট করে নাহ, তখন কী হয় আসলে? আমাদের সমাজ তো আমাদেরকে এভাবেই দেখায় প্রেমকে, কিন্তু এরপরে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে কেন? কোন জিনিসটা আমরা বুঝতে পারছি নাহ?
এর জন্য মূলত দায়ী প্রেম নিয়ে মিস্কনসেপশন। আমাদের বোঝা উচিত যে এই প্রেমের জন্য কাজ এবং কমিট্মেন্ট দরকার হয়! এটা একটা ভার্ব! যদি প্রেম এমন একটা কাজ হয় যেটাকে আমরা জেনে শুনে বুঝে ইন্টেনশনালিই নিচ্ছি, তাহলে সেটা আমাদেরকে কখনো ওভারহোয়েল্ম করতে পারে নাহ! যদি আমরা প্রেমে পড়তে চাই, তাহলে আমাদেরকে এটা বিশ্বাস করে নিতে হবে যে এটা কোনো প্যাকেট নাহ যেটা কিছু সময়ের জন্য জড়িয়ে ধরে রাখবে আর নোংরা বা পুরানো হয়ে গেলে ছিড়ে ফটে যাবে। এসবের আগে আমাদের দেখতে হবে আমরা মানুষ হিসেবে কে কীরকম, আমরা রিলেশনশিপ থেকে কী চাই, এবং আমরা সেই রিলেশনশিপে নিজেরা কী দিতে পারব!
লেখিকার বিশ্বাস যে, শেষের স্টেপটাই সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কী দিতে পারব? এটা সব থেকে গুরত্বপূর্ণ কারণ আমরা সর্বদাই ভাবি আমরা অন্য থেকে রিলেশনে কি পাব! হতে পারে সেটা ফিজিক্যাল বিউটি বা ইন্টিমেসি, হতে পারে মেন্টাল স্যাটিসফেকশন, হতে পারে অন্য যেকোন বিমিউজমেন্ট। কিন্তু আমরা ভাবি নাহ, আমরা কী দিতে পারব। হ্যাঁ এটা খারাপ নাহ যে আমরা ভাবি আমরা কি পাচ্ছি, কারণ আমরা সবাই ই তো চাই যে আমাদের আশেপাশে এমন মানুষ থাকবে যারা কাইন্ড হবে, যারা সাপোর্টিভ হবে, যারা খারাপ এবং ভালো সময়ে পাশেও থাকবে! ইয়াহ, আমরা কি খুঁজছি সেটা আইডেন্টিফাই করাটা অবশ্যই একটা ভালো ব্যাপার এবং সেটা ভাবতে ভাবতে আমরা নিজেরাও বোঝা উচিত যে একজন গুড পার্টনার আসলে কেউ কীভাবে হতে পারে! এটা ইম্পরট্যান্ট যে আমি কী দিচ্ছি! আমি কি ইন রিটার্ন তাকে সাপোর্ট দিচ্ছি? মেন্টাল হেল্প? উৎসাহ? বা আমি কি ভালো শ্রোতা? বা আমি কি তাকে হনেস্টি দিচ্ছি? যেই সত্য তার শুনতে খারাপ লাগবে, সেটা কি আমি তাকে বলতে পারছি? আমি কি তার সব রকম সময়ে তার পাশে থাকতে পারব? হোক সে টায়ার্ড বা বিরক্ত বা রাগান্বিত?
একটা নতুন সম্পর্ক শুরু করার আগে অবশ্যই এই প্রশ্নগুলো মাথায় আনা উচিত। এই প্রশ্নগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারব আমি কী চাচ্ছি, এবং আমি কী দিতে চাচ্ছি। এই প্রশ্ন মাথায় থাকলে আমরা ভুল কারো সাথে সম্পর্ক শুরু করে অনেক লেইটে গিয়ে সেটা রিয়েলাইজ করব নাহ! (আমার অনেক আগের একজন ক্লোজ মেয়েবন্ধু আমাকে একসময় বলেছিল, "যেই রিলেশন এর ফিউচার কী সেটা জানবি নাহ, সেটা শুরু করিস নাহ।") এবং তার থেকেও বড় কথা আমরা জানব যে আমাদের এই সম্পর্কের এর ফিউচার এক্স্যাক্টলি কী। যদি আমি নিজের ক্যারেক্টার এবং আমি যাকে চাই তার ক্যারেক্টার বুঝি, তাহলে ফিউচার প্রেডিক্ট করা তো আহামরি নয়!
হ্যাঁ হতে পারে যে সেই অন্য কারো সাথে মেশার কিছুদিন পরে আমরা আনেট্রাক্টিভ কোনো বৈশিষ্ট্য তার মধ্যে খুঁজে পাচ্ছি! হতে পারে যে এটা আর সিনেমার মত লাগছে নাহ! এই সময়েই অনেকে ভাবে যে ইলিউশন এন্ডেড, এবং এই ইলিউশনের জাহাজ থেকে লাফ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিছু পারফেক্ট না হলেই আমরা সেটাকে সমস্যা ধরে নিই। বাট সেটা সব সময় সত্যি নাহ! হ্যাঁ অনেক ক্ষেত্রে এমন হতে পারে যে পার্টনার খুব ই টক্সিক, বা এবিউসিভ, সেক্ষেত্রে হয়ত আর কন্টিনিউ করা সম্ভব হচ্ছে না বা উচিত বলে মনে হচ্ছে নাহ। বাট এর বাইরেও অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা তেমন নাহ, অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা হয়ে যায় "মন উঠে গেছে" ফিলিংস এর মত। সেটাও মনের মধ্যে থাকা মিস্কনসেপশন গুলোর জন্যই! হানিমুন পিরিয়ড শেষ মানেই রিলেশনশিপের শেষ নাহ!
তার থেকে লেখিকা মনে করেন যে প্রেম জিনিসটা সময়, মিউচুয়াল কানেকশন, বিশ্বাস এবং কমিট্মেন্ট এর সাথে গ্রো করতে থাকে। ইন ফ্যাক্ট, মিউচুয়াল গ্রোথ জিনিসটাই একটা সাক্সেস্ফুল রিলেশনশিপের সব থেকে বড় বৈশিষ্ট্য! মিউচুয়াল গ্রোথ জিনিসটার মধ্যে অনেস্টি থাকে, রিয়েলিজম থাকে। দুইজন এক্সেপ্ট করে নেয় যে তারা একে অপরের প্রতি এট্র্যাক্টেড এবং একই সময়ে বুঝে যে তারা কেউ পারফেক্ট নাহ। তারা এক্সেপ্ট করে নেয় যে কখনো তাদের খারাপ দিন যাবে, ক্লান্ত সময় যাবে। রাগ মাথায় উঠবে। এসব বিশ্বাস করে নিয়ে তারা একে অপরকে জায়গা দিয়ে একসাথে গ্রো করতে থাকে। এবং গিভ আপ করা বাদ দিয়ে, বরং একসাথে গড়ে উঠা এবং গড়ে উঠার সময়ে একে অন্যকে উৎসাহ দেওয়া- এটাই প্রেমের মূল বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত বলে লেখিকা মনে করেন।
লেখিকা এসবের সাথে এটিও মনে করিয়ে দেন যে ট্র্যাডিশনাল ভাবে মেয়েদেরকে যেভাবে একঘরে করে দেওয়া হয়, সেটাও তাদের মিউচুয়াল গ্রোথ এর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। আমরা ধরে নিই যে পুরুষ এবং মহিলার আলাদা জগৎ, ক্ষেত্র, কর্মস্থল ও দায়িত্ব আছে, যার কারণে একসাথে গ্রো করার যে ব্যাপার- সেটা আমরা মিস করি। তাই যদি স্বাস্থ্যবান সম্পর্কের দরকার হয়, তাহলে ঐ টক্সিক, পূর্ব নির্ধারিত আইডিওলজিগুলো বাদ দিয়ে নতুন ভাবে ভাবা শুরু করা উচিত। দুইজনে মিলে একসাথে একটা ওপেন মাইন্ডেড ভাবে মিউচুয়ালি গ্রো করা উচিত এবং নিজের আইডেন্টিটিকে বোঝা উচিত, সে আসলে কী এবং কে, তা জানা উচিত! এবং সেই আইডেন্টিটি নিয়েই বেঁচে থাকা উচিত!

CHAPTER 4: FINAL SUMMARY
আমাদের সমাজে প্রেম বিষয়ক অনেক টক্সিক মিসকনসেপশন আছে, যার কারণে আমাদের সম্পর্কগুলোও হয়ে যেতে থাকে তেমনটা। সম্পর্কে জড়ানোর আগে নিজেকে স্পেসিফিক প্রশ্ন করা উচিত, এবং মোটিভ ক্লিয়ার থাকা উচিত। এরপর মিউচুয়াল রেস্পেক্ট, ভালোবাসা, কমিট্মেন্ট, সময়, উৎসাহ- সব কিছু নিয়েই বড় হতে থাকবে তাদের সম্পর্ক!
Edited and Written By: Ankon Dey Animesh


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন